অসংখ্য মসজিদ ধ্বংসকারী সৎনামীদের যেভাবে দমন করেছিলেন বাদশাহ আওরঙ্গজেব

by sultan

রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের মতো সুদক্ষ শাসক ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে। তার শাসনামলের একটি অসামান্য কৃতিত্ব হলো, তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর রাজ্যে দানা বাধা শত্রুদের ছোট ছোট বিদ্রাহগুলো খুব সুনিপুনভাবে দমন করতে পেরেছিলেন। যার কারনে তার শাসনামলে বিশৃঙ্খলামুক্ত জীবনযাপন করেছে জনসাধারণ।

আওরঙ্গজেবের আমলে ১৬৭২ সালের দিকে সৎনামী নামে একটি বিদ্রোহী সন্নাসী দলের আবির্ভাব হয়েছিল। যারা অতর্কিত লুকিয়ে হামলা করে অনেক মুসলিম সৈন্যকে হত্যা করেছিলো। পাশাপাশি তারা অনেক মসজিদও ধ্বংস করে দিয়েছিলো। অনেকটা দিল্লীর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মতো। এ দলের নেতারা প্রচার করতো যে, যারা তাদের সাথে যোগদান করবে এবং যুদ্ধ করবে তারা মারা যাবে না। আর তারা ভাগ্যচক্রে মারা গলেও একজনের রক্তে আবার ৮০ জন লোক তৈরি হবে। এ ধোঁকাতে এই সৎনামী দলে ও লুটতরাজে অনেক সাধারণ হিন্দুু যোগদান করে। দেখতে দেখতে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়ে যায় প্রায় ৫ হাজার জন।

এদের পোশাক আশাক ছিল অসভ্য ও অদ্ভুত ধরণের। তাদের চুল দাঁড়ি গোঁফ এমনকি চোখের ভ্রু পর্যন্ত মুণ্ডিত থাকতো। সে কারণে সন্নাসীদের আরক নাম ছিল মুণ্ডিয়। দিল্লী থেকে মাত্র ৭৫ মাইল দূরে নারনোল জেলায় ও মেওয়াতে এদের বড় ও শক্ত ঘাঁটি ছিল। অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা ব্যাপক গণহত্যা চালাতো। তাদেরকে প্রতিহত করতে গিয়ে অনেক হিন্দু রাজকর্মচারীও প্রাণ হারিয়েছিল। নারনোলের ফৌজদারদেরকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তারা অনেক শহর ও জনপদ ধ্বংস করে ফেলে, অনেক লোক হত্যা করে তারা নিজেরা আলাদা শাসনব্যবস্থাও চালু করে ফেলে। তাদের এই হত্যালীলা থেকে সাধারণ হিন্দুরাও রক্ষা পায়নি।

আওরঙ্গজেব নিরুপায় হয়ে কয়েক হাজার সৈন্য প্রেরণ করে তাদের রক্তে ৮০ জন করে জন্ম নেয়ার অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণ করে তাদের নির্মূল করেন। হিন্দু ঐতিহাসিকেরা সৎনামীদেরকে বীর বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাদের অত্যাচারে ধ্বংসহওয়া মসজিদগুলি সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে আবার পুনঃনির্মাণ করে দেয়া হয়। তাদের প্রবর্তিত নতুন শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ও রাজদ্রোহীদল সৎনামীদের দমন করতে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তা কোনো নিরপেক্ষ নাগরিকের নিকট নিন্দনীয় হওয়া উচিত নয়। অথচ হিন্দু ঐতিহাসিকদের অনেকের রচনায় বলা হয়েছে, ‘মুঘল সৈন্যদের বিরুদ্ধে সৎনামীরা বীরের মতযুদ্ধ করে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছিল।’ মুণ্ডিয় সন্নাসী সৎনামীদের দমন করতে সম্রাট আওরঙ্গজেব যে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার জন্য তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যন্য সম্রাটরাও তাদের রাজ্যের ছোট ছোট বিদ্রোহ কিভাবে মোকাবিলা করবে তারা একটা ধারণা লাভ করতে পারবে। পরিশেষে জ্ঞানে-বুদ্ধিতে, বিচক্ষণতায়-প্রজ্ঞায়, খোদাভীরুতায়, ন্যায়বিচারে, সাহসীকতায় ও মানবসেবায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। তিনি আমাদের হৃদয়ের কোটরে বাস করছেন। আমাদের প্রিয় সম্রাট আওরঙ্গজেব।

0 মন্তব্য
3

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!