কয়েকজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, যারা নোবেল পাওয়ার যোগ্য

by sultan

ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা

খ্যাতিমান বিজ্ঞানী ও লেখক ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে ১৯০০ সালের ১ ডিসেম্বর। কলকাতার উডবার্ন এমই স্কুল থেকে স্কলারশিপ নিয়ে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নশাস্ত্রে এমএসসিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছর লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনায় যোগ দেন। ১৯৩৬ সালে বিভাগীয় প্রধান এবং ১৯৪৬ সালে প্রিন্সিপাল হন। কিছুকাল ইসলামিয়া কলেজেও অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৪৭-১৯৪৯ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জনশিক্ষা পরিচালক এবং পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ১৯৫২-১৯৫৫ পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ১৯৫৫-১৯৬৬ পাকিস্তান বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব নেন। অবসর নেয়ার পর কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। ১৯৭৪ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। তার রচিত ১০২টি মৌলিক প্রবন্ধ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি বিজ্ঞানচর্চায় মাতৃভাষাকে সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচনা করতেন। রবীন্দ্রনাথের উদ্যোগে বিশ্বভারতী থেকে ‘লোক-শিল্প’ পর্যায়ে যে গ্রন্থমালা সিরিজ প্রকাশিত হতে শুরু করে, তাতে তার রচিত যুদ্ধোত্তর বাংলার কৃষিশিল্প গ্রন্থটি ১৩৫০ সালে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বহু পাঠ্যপুস্তকও রচনা করেন।পবিত্র কোরানের পূত কথা ও অঙ্গারী জওয়ারা নামে একটি ধর্মীয় পুস্তকও রচনা করেন। বিজ্ঞানী হিসেবে ড. খুদা ও তার সহকর্মীদের ১৮টি আবিষ্কারের প্যাটেন্ট রয়েছে। ১৯৭৭ সালের ৩ নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।

ডঃ আতাউল করিম

ট্রেন চলবে কিন্তু ট্রেনের চাকা লাইন বা ট্রাক স্পর্শ করবে না। চুম্বকের সাহায্যে এটি এগিয়ে চলবে এবং গন্তব্যে পৌঁছবে চোখের পলকে। বিশ্বের পরিবহন সেক্টরে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এবং বাস্তব এটি। আর এর পুরো কৃতিত্ব একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী। তিনি হলেন ডঃ আতাউল করিম। বিশ্বের সেরা ১০০জন বিজ্ঞানীর একজন। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ার নরফোকে অবস্থিত ওল্ড ডোমিনিয়ন ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (গবেষণা) ডঃ আতাউল করিমের এ সাফল্যের কাহিনি মার্কিন মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকেরা বিগত৭ বছর ধরে এ ধরনের একটি ট্রেন তৈরীর গবেষণায় ফেডারেল প্রশাসনের বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু তা সাফল্যের আশপাশেও যেতে পারেনি। অবশেষে ২০০৪ সালে এই গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ডঃ আতাউল করিম এবং গত দেড় বছরে ট্রেনটি নির্মাণে সক্ষম হন। পরীক্ষা সফল হয়েছে। এখন শুধু বানিজ্যিকভিত্তিতে চালু করার কাজটি বাকি।জার্মানী, চীন ও জাপানে ১৫০ মাইলের বেশী বেগে চলমান ট্রেন আবিস্কৃত হলেও তাতে প্রতি মাইল ট্রাক বা লাইনের জন্য গড়ে খরচ ১১০ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু ডঃ করিমের এ ট্রেনে খরচ হবে মাত্র ১২/১৩ মিলিয়ন ডলার। দেখতেও আকর্ষণীয় এ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা স্টার্ট নেয়ার পর লাইনকে স্পর্শ করবে না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ৩৩ বছর আগে আমেরিকায় এসেছেন ডঃ করিম। এরপর পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এস, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এম.এস এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পি.এইচ.ডি করেন আলাবামা ইউনিভার্সিটি থেকে যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৭৯ এবং ১৯৮১ সালে। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেয়ার পর শুরু পেশাগত জীবন এবং মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে তিনি বর্তমানেযুক্তরাষ্ট্র তথা বিশ্বের মেধাসম্পন্ন ৫০০০ গবেষক-ছাত্রেরনেতৃত্ব দিচ্ছেন অন্ততঃ ৬০০ ফ্যাকাল্টিতে। ডঃ করিমের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে ৬টি কলেজ, কমপক্ষে ২০টি গবেষণাকেন্দ্র, ৬শত শিক্ষক এবং ৫হাজারের উপরে গ্রাজুয়েট ও আন্ডার-গ্রাজুয়েট ছাত্র-ছাত্রী।

অধ্যাপক ওসমান গণি তালুকদার এবং অধ্যাপক মুশফিক আহমেদ

কিছুদিন পর বিভিন্ন পত্রিকাতে যে খবরটি বেশি আলোড়িত হয় তা হলো বাংলাদেশ এর দুই বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর আপেক্ষিকতাকে পরিপূর্ণ রুপ দিবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ।ওই বিজ্ঞানীদ্বয় হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওসমান গণি তালুকদার এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অপর অধ্যাপক মুশফিক আহমেদ।২০ বছর ধরে গবেষণা করে তাঁরা এ সাফল্য পেয়েছেন।এ থেকেই বুঝা যায় যে তাঁরা এই আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর অনেক গবেষণা করেছেন ।বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতবাদ অনুসারে কোন বস্তুর গতি আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে না।এ বিষয়ে আইনস্টাইন দিয়ে গেছেন পাঁচটি সমীকরণ এবং একটি মৌলিক ধ্রুবসংখ্যা।আইনস্টাইনের এ মতবাদ ছিল অসম্পূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে তাঁরা নানাভাবে প্রমাণ পেয়েছেন যে, বস্তুর গতি আলোর গতির চেয়ে বেশি হতে পারে। বস্তুর গতি যে আলোর গতির চেয়ে বেশি হতে পারে এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ওসহকারে ২০০১ সালে ওসমান গণি তালুকদার An Alternative Approach to the Relativity নামে একটি বইও প্রকাশ করেন।বইটি প্রকাশ করার আগে তাঁরা উভয়েই এ বিষয়ের ওপর লেখা কিছু গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দৃশ্যত আইনস্টাইনের তত্ত্বের বাইরে যাওয়া যাবে না ভেবেই বিদেশের কোনো জার্নাল তাঁদের প্রবন্ধ প্রকাশ করেনি। অধ্যাপকেরা উল্লেখ করেন, বইটি প্রকাশ করার আগে ২০০১ সালের ২০ মে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেওয়া হয়, নিউট্রিনো নামের বস্তুকণিকা আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের মতবাদ লঙ্ঘন করে, অর্থাৎ নিউট্রিনো আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলে। তাঁরা বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের নির্ণীত তিনটি সমীকরণের মধ্যে দুটি সমীকরণ সংবলিত একটি প্রবন্ধ কানাডার একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছেন, যা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।প্রধানত সার্নের বিজ্ঞানীদলের ফলাফল বাংলাদেশ এর দুই বিজ্ঞানীকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে সেই মতবাদকে সম্পূর্ণতাদান বা সম্প্রসারিত করার।তা না হলে কখনই সুযোগ আসতো না বাংলাদেশ এর এই দুই বিজ্ঞানীর। সার্নের ওই গবেষক দল এখন পর্যন্ত কোন সমীকরণ দাঁড় করাতে পারেনি কিংবা এ সংক্রান্ত কোন মৌলিক ধ্রুব সংখ্যাও নির্ণিত করতে পারেনি। সার্নের গবেষকদের এ ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয় চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর।এর আগে থেকেই তাঁরা (অধ্যাপক ওসমান গণি তালুকদার ও অধ্যাপক মুশফিক আহমেদ) সংবাদ সম্মেলন করে, বই প্রকাশ করে এবং প্রবন্ধ লেখাসহ নানাভাবে ঘোষণা দিয়ে আসছেন যে, বস্তুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে এবং এ সংক্রান্ত নতুন সমীকরণ দাঁড় করানোসহ কিছু মৌলিক ধ্রুব সংখ্যাও আবিস্কার করেছেন ।আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ভুল নয়, অসম্পূর্ণ- এটি প্রমাণ করতে ও নতুন সমীকরণের মাধ্যমে আপেক্ষিকতা তত্ত্বকে সম্পূর্ণ করার স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন আগে শুরু হয়েছিল দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনার। এই স্বপ্নের দুই মূল চরিত্র হলেন রাবির শিক্ষক অধ্যাপক ওসমান গনি ও অধ্যাপক মুসফিক আহমেদ।সেমিনারে এই দুই গবেষক বলেন, বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতবাদ থেকে স্থান-সংকোচন, সময়ের বিস্তার, বস্তুর পরিবর্তন ইত্যাদি সংক্রান্ত কিছু সমীকরণ পাওয়া যায়। তাঁরা বলেন, আপেক্ষিকতা সূত্রে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন গাণিতিক সূত্র প্রয়োগ করে শুধু একটি অবস্থাকেই দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে দুটি অবস্থানে দুটি সূত্র দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁরা বলেন, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ও বিজ্ঞানী লরেন্স শুধু বেগের ক্ষেত্রে যোগসূত্রটি দেখিয়েছেন। কিন্তু সময়, দৈর্ঘ্য, স্থান, ভর, ভরবেগ, শক্তি- এগুলোরও যে যোগসূত্র হয়, তা তাঁরা (ওসমান গণি তালুকদার ও মুসফিক আহমেদ) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এসবের একটিরও গুণসূত্র দেননি। কিন্তু এগুলোরও যে গুণসূত্র হয়, তাও তাঁরা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া এসবের যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান রয়েছে, তা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলে যাননি। কিন্তু তাঁরা গবেষণা করে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন যে এগুলোরও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান রয়েছে।গবেষকরা বলেন, দীর্ঘ দুই দশক ধরে গবেষণা করে এ-সংক্রান্ত যে তিনটি সমীকরণ তাঁরা আবিষ্কার করেছেন, তা আপেক্ষিকতা বিষয়ে আইনস্টাইনের মতবাদের বিরোধিতা করে না, বরং আইনস্টাইনের মতবাদকে পূর্ণতা দেবে। তাঁদের আবিষ্কৃত এই সমীকরণগুলো কোয়ান্টাম মেকানিকসের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।সেমিনার শেষে গবেষকরা বলেন, অধ্যাপক ওসমান গণি ও অধ্যাপক মুসফিক আহমেদ যদি তাঁদের দাবি প্রমাণ করতে পারেন, তবে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই বিষয়ে আরো প্রচারের দরকার আছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা আরো বলেন, এই বিষয়ে আরো সেমিনার করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ যাঁরা এই বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করেন, তাঁদের অংশগ্রহণ এখানে কম। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সবাই এই বিষয়ের গবেষক নন বলে অংশ নেওয়া গবেষকরা মন্তব্য করেন।

আব্দুস সাত্তার খান

১৯৪১ – ৩১শে জানুয়ারি, ২০০৮ বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত মহাকাশ গবেষক। কর্মজীবনে তিনি নাসা, ইউনাইটেড টেকনোলজিসের প্র্যাট এন্ড হুইটনি এবং অ্যালস্টমে (সুইজারল্যান্ড) কাজ করেছেন।আব্দুস সাত্তারের গবেষণা এবং মহাকাশে তার প্রয়োগের জন্য তিনি নাসা, আমেরিকান বিমানবাহিনী, ইউনাইটেড টেকনোলজি এবং অ্যালস্টম থেকে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির একজন পেশাদার রসায়নবিদ এবং নির্বাচিত ফেলো

0 মন্তব্য
0

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!