খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আরবরা যেভাবে বৃহৎ ফিলিস্তিন ও স্বাধীনতা হারিয়েছিলো

by sultan

মুসলিম বিশ্বের জনগন আমরা অতীতের ইসলামী খিলাফতকে স্বরণ করে গর্ববোধ করি। সেসব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই। শুধু গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসই নয়, পাশাপাশি কিভাবে প্রতারিত ও মুনাফেকী করে খিলাফত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে সে ইতিহাসও আমাদের জানার প্রয়োজন রয়েছে। এককথায় এসব ইতিহাসই আমাদের বর্তমানে প্রজন্মের বেশি করে জানা উচিত। খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আরবরা যেভাবে বৃহৎ ফিলিস্তিন ও স্বাধীনতা হারিয়েছে

ফিলিস্তিন। এই নামটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি মুসলিম নির্যাতনের ভূখন্ড হচ্ছে এই ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিন নামটি স্বরণ করলেই ভেসে ওঠে দখলদার হানাদার ইসরাইলের বিমান থেকে অজস্র বোমা আমার মুসলিম ছোট ছোট ভাইদের বুকে পড়ছে। কিন্তু এই ফিলিস্তিন কি এরকমই ছিলো? আজকে যে ফিলিস্তিনিরা ইহুদীদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে তার পেছনে কি তাদেরই হাত আছে? তাদেরই ব্যর্থতা আছে? চলুন তাহলে জেনে আসি প্রকৃত ঘটনা কি-

ফিলিস্তিন মুসলমানদের হস্তগত হয় হজরত ওমর ফারুকের খেলাফতকালে ১৮ হিজরিতে। তারপর ক্রুসেড যুদ্ধের সময় প্রায় ৯০ বছর তা ছিল খ্রিষ্টানদের দখলে। আবার তা মুসলমানদের দখলে আসে গাজি সালাহুদ্দীন আইয়ুবির মাধ্যমে। এরপর ১৯১৭ পর্যন্ত তা নিরবচ্ছিন্নভাবে মুসলমানদের আয়ত্তেই ছিল। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১২৫০ বছর মুসলমানদের অধীনেই ছিল ফিলিস্তিন ভূমি। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ থেকে ইঙ্গ মার্কিন মদদে ফিলিস্তিনে ইহুদিরা শক্তি বাড়াতে থাকে এবং এক পর্যায়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের উৎখাত করে সেখানে একটি ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করে। ইহুদিদের জন্য এখানে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত অনেক দীর্ঘ ও পরিকল্পিত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে উসমানীয় খিলাফতের অধীনে শাষিত ফিলিস্তিন ছিলো একটি সুন্দর, আকর্ষণীয় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি প্রদেশ। মুসলমানদের জন্য ফিলিস্তিনের ভূমি অত্যন্ত মর্যাদার কারণে উসমানীয় খলীফারা এই ভূমির উন্নয়নে ও পবিত্রতা রক্ষার্থে যা প্রয়োজন তার প্রায়ই সবই করেছিলেন। ফিলিস্তিনের নিরাপত্তার জন্য উন্নত বাহিনী গঠন করে দীর্ঘকাল প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বাংলাতে একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে ‘সুখে থাকতে ভুতে কিলায়’। ঠিক তেমনি ফিলিস্তিনী আরবদের এই সুখ বেশিদিন টিকলোনা। বৃটিশ কুখ্যাত গোয়েন্দা লরেন্স কৌশলে আরব বেশভূষা ধারণ করে ফিলিস্তিনসহ আরব জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদের সূচনা করলো। সে আরব গোত্রগুলোর প্রধানদের মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিলো যে ‘তুর্কীরা এত দুর থেকে তোমাদের গোলামে পরিণত করে রেখেছে। অথচ তোমরা বীর আরব। তোমাদের অতীত গৌরব রয়েছে’। ফলে আরবদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের পোকা উতলে উঠলো। কুখ্যাত গোয়েন্দা লরেন্সের প্ররোচনায় আরব তরুনরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলো। এর ফলস্বরূপ আরবরা খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসলো।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ মরক্কোর সমুদ্রবন্দর কাসাব্লাঙ্কায় হামলা চালায়। সেখানে তুর্কি যুদ্ধজাহাজ ছিল। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে ৬’শ সৈন্য ছিল। তুর্কি মোকাবেলায় ব্রিটিশ জাহাজ ডুবে যায়। অবশ্য মরক্কো তখন উসমানীয় খিলাফত থেকে আলাদা হয়ে গেছে। কেননা ১৯১১-এ তুর্কি খিলাফত দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এক এক করে মরক্কো, সেনেগাল, আলজিরিয়া, তিউনিস, লিবিয়া, মিসর, সুদান, মধ্য আফ্রিকা ও অন্য সব আফ্রিকান প্রদেশ থেকে হাত গুটিয়ে নেয়। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে ও এশিয়ার প্রদেশগুলোর ওপর কর্তৃত্ব রাখতে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তুর্কিদের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদের প্রচারণা চালানোর কারণে মরক্কো থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিদ্রোহ দেখা দেয়। অন্যভাবে বলা যায়, আটলান্টিক থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত আরব জাতীয়তাবাদের ঢেউ চলতে থাকে। তুর্কি খলিফারা আরবদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালান এবং যুদ্ধে তুর্কিদের পক্ষে কাজ করতে অনুরোধ জানান। যুদ্ধের পর আরবদের স্বাধীনতা কিংবা ক্ষমতার ভাগ দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আরবরা কিছুতেই শান্ত হয়নি। আফ্রিকার প্রদেশগুলো হাতছাড়া হয়ে গেলেও ইয়েমেন, আরব, ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিন অর্থাৎ এশিয়ার এসব অঞ্চল তুর্কিরা ছাড়তে রাজি ছিল না। ফলে এখানে তুমুল লড়াই হয়। ত্রিপক্ষীয় শক্তি একজোট হয় তুর্কিদের বিরুদ্ধে এক দিকে ব্রিটিশ, আরেক দিকে ফরাসি আর অপর দিকে আরব শক্তি সম্মিলিতভাবে তুর্কি শক্তির মোকাবেলা করতে থাকে। স্বাভাবিক নিয়মেই এশিয়ার সব প্রদেশ চলে যায় অন্যদের নিয়ন্ত্রণে। ইউরোপীয় বাহিনীগুলো আরবদের সহায়তার নামে এখানকার সব বন্দর ও শহর নিজেদের দখলে রাখে এই বলে যে, তুর্কিরা যদি আবার ফিরে আসে। এভাবে সব প্রদেশকে আলাদা আলাদা রাষ্ট্র বানিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেদের মধ্যে এগুলো ভাগ করে নেয়। আরবদের স্বাধীনতার ছলনা দিয়ে নিজেদের জালে আটকায়।

এরপর জাতীয়তাবাদের পোকা খিলাফত শাসনের মধ্যেও গিয়ে পড়ে। তরুন তুকীরা সংস্কারের নামে ইসলামবিদ্বেষী মোস্তফা কামালের সহযোগীতায় তুরস্কের উসমানীয় খিলাফতের বিলুপ্তি ঘটায়। যা দীর্ঘ ইতিহাস। আরব অঞ্চল থেকে তুর্কীদের শাসন রদ হয়ে যাওয়ার পর আরবরা তখন ব্রিটিশ ও ফরাসি সৈন্যদের চলে যেতে বলল। কিন্তু তারা যুদ্ধের ক্ষতি পুষিয়ে না নেয়া পর্যন্ত চলে যেতে অস্বীকার করল। ইউরোপীয় বাহিনী এভাবে জবরদখলকারী হিসেবে রয়ে গেল। এখন আরবরা না পারে সইতে, না পারে কিছু বলতে। অবশ্য প্রতিবাদ ও সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়। ওদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত গোষ্ঠীও তৈরি হয়ে যায়। তাদেরই হাতে এক সময়ে এসব অঞ্চলের শাসনভার ছেড়ে দিয়ে দখলদার বাহিনী আস্তে আস্তে চলে যায়। তবে এজন্য স্থানীয় জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রাম চালাতে হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। সিরিয়া ৩৫ বছর পর স্বাধীনতা লাভ করলেও দখলদার শক্তি এটাকে ভাগ করে সিরিয়া ও লেবানন দু’টি রাষ্ট্রে পরিণত করে। কোনো কোনো অঞ্চল চল্লিশ পঞ্চাশ বছরের রক্তক্ষয়ী ত্যাগ স্বীকারের পর স্বাধীন হয়। ফ্রান্স বলে বসে আলজিরিয়া আমাদেরই দক্ষিণ অংশ। আমরা তা ছাড়ব না। ফ্রান্সের জবর দখলের প্রতিবাদে গড়ে ওঠে গেরিলা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন আহমদ বেনবিল্লাহ। শুরু হয় সব শহর ও গ্রামে গেরিলা যুদ্ধ । ফলে ৭৫ বছর পর শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ড লড়াই ও বিরাট ত্যাগের বিনিময়ে আলজিরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এভাবে তুর্কি খিলাফতের সাথে বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করে পূর্ব আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার জনগণ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে (১৯১৪-১৯১৯) ফিলিস্তিনে কয়েক হাজার ইহুদি বাস করত। এদের অধিকাংশের পেশা ছিল ব্যবসা। আর গোটা ফিলিস্তিনের বাসিন্দা ছিল আরব মুসলমানরা। এদের মধ্যে ছিল উচ্চবিত্ত জমিদার, কৃষক, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকুরে, বিশাল জলপাই বাগানের মালিক, কারখানা মালিক ইত্যাদি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যে আদমশুমারি হয় সে অনুযায়ী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ। স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘেœ স্বচ্ছল জীবনযাপন করছিল তারা। তখন কে জানত এই সুখের জীবনের পরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে দারিদ্র্য, দুর্দশা ও শরণার্থী শিবিরের জীবন। ইহুদিরা ব্রিটেনের রাজার সাথে এক চুক্তি করে যে, তারা ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সব ব্যয় পরিশোধ করবে যদি তাদের প্রতিশ্রæত ভূমিতে নিজেদের একটি রাষ্ট্র গঠন করে দেয়া হয়। এটা ২ নভেম্বর ১৯১৭-এর চুক্তি। বৃটেনের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যালফোর এ উপলক্ষ্যে যে ঘোষণা দেন এরই নাম বেলফোর ঘোষণা। চুক্তি অনুযায়ী মহারাজার সরকার সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রæতি দেয়। কিন্তু বিষয়টি সহজ ছিল না।

ফিলিস্তিন যেহেতু ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ইহুদিদের পরামর্শ দিলো, তারা যেন ইউরোপ থেকে জায়গা বদল করে ফিলিস্তিনে গিয়ে বসতি স্থাপন করতে থাকে। ১৯১৮ পর্যন্ত ইহুদিদের সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে যায়। কিন্তু মুসলমানদের সংখ্যা থেকে যায় ৭ লাখই। ইহুদিরা পূর্ব ইউরোপ, রাশিয়া, পোল্যান্ড ও বাল্টিক এলাকাগুলো থেকে আসতে থাকে এবং ফিলিস্তিনে তাদের বসতি করে দিতে থাকে ব্রিটেন। ১৯২৭ পর্যন্ত ইহুদিদের ছোট বড় ২২০ বসতি গড়ে ওঠে। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বসতি নির্মাণ করে দেয় ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী এলাকায় অর্থাৎ হাইফা থেকে জাফা এলাকা পর্যন্ত এসব বসতি স্থাপিত হয়। প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ করে ইহুদি আসতে থাকে। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে লিগ অব নেশন্সের ম্যান্ডেট ছিল। সেমতে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের ন্যায়-অন্যায় সব রকমের সুবিধা দিতে থাকে এবং আরবদের উপকূলীয় এলাকা থেকে জেরুসালেমের দিকে ঠেলে দিতে থাকে। ১৯৩১ পর্যন্ত ফিলিস্তিনে জনসংখ্যার হার দাঁড়ায় এ রকম নিরেট আরব মুসলমান সাড়ে ৭ লাখ বা শতকরা ৭৩ ভাগ, ইহুদি পৌনে ২ লাখ বা ১৭ শতাংশ, খ্রিষ্টান ৯১ হাজার বা ৯ শতাংশ অন্যান্য ৯ হাজার বা ১ শতাংশ। প্রথম দিকে কোনো কোনো নবাগত গোষ্ঠী একত্র হয়ে আরবদের কাছ থেকে কিছু জমি কেনে। আবার অনেকে অনাবাদি জমি বিনামূল্যে দখল করে সেখানে বসতি গড়ে তোলে। ইংরেজ সরকার প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে কিছু জমি অ্যাকোয়ার করে সেখানে ইহুদিদের বসতি নির্মাণ করে দেয়। অবশেষে ১৪ মে ১৯৪৮ ফিলিস্তিনকে ভাগ করে একটি অংশের কর্তৃত্ব অর্পণ করা হয় ইহুদিদের হাতে। এই ভাগাভাগি অনুযায়ী ইহুদিদের দেয়া হয় ৭ হাজার ৯৯৩ বর্গমাইল আর আরবরা পায় মাত্র ২ হাজার ৪৩৬ বর্গমাইল। অবিচার আর কাকে বলে! সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইহুদিরা আরবদের নিজেদের জন্য বরাদ্দ এলাকা থেকে বের করে দিতে শুরু করে। আরবরা প্রতিবাদ করে। পরিস্থিতি গড়ায় যুদ্ধ পর্যন্ত। জুন ১৯৪৮ থেকে জানুয়ারি ১৯৪৯ পর্যন্ত মিসর, সিরিয়া, লেবানন ও জর্দান ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করে এবং কোনো কোনো জায়গায় ইহুদিদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। জানুয়ারিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়। তারপর ইহুদিরা ৬ লাখ মুসলমানকে তাদের এলাকা থেকে বের করে দেয়। গাজায় সঙ্কীর্ণ একটি ফালি বাদ দিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা বরাদ্দ দেয়া হয় ইহুদিদের। পবিত্র নগর জেরুসালেমও ভাগ করা হয়। আরবদের নিজেদের আবাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তুতে পরিণত করা হয়। আর মুসলমানদের পবিত্র নগরী জেরুসালেমে আস্ফালন করতে থাকে ইহুদিরা। বিশ্বের ইতিহাসে এমন বিশ্বাসঘাতকতা, বর্বরতা, প্রতারণা ও অত্যাচারের নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। মোট কথা ইসরাইল রাষ্ট্রের আকারে একটি ছুরি বসিয়ে দেয়া হয়েছে আরবদের বুকে।

ইসরাইলে ইহুদি জনসংখ্যা ১৯১৪-এর আগে কয়েক হাজার, ১৯১৮-এ ৫০ হাজার, ১৯৩১-এ ১ লাখ ৭৫ হাজার, ১৯৩৫-এ ৩ লাখ, ১৯৪৮-এ সাড়ে ৮ লাখ, ১৯৫৮-এ ২০ লাখ, ২০০০-এ ৬২ লাখ এবং ২০০৭-এ দাঁড়িয়েছে ৭৫ লাখ। আরবরা যদি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের ওসমানি খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করত, তাহলে তাদের এ দুর্দিন পোহাতে হতো না।

0 মন্তব্য
4

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!