গ্রানাডার দুঃসাহসিক নারী নৌ জেনারেল সাইয়িদা আয়েশা আল-হুররা

by sultan

১৪৯২ সালের মে মাস। গ্রানাডা বন্দর থেকে পাল তুলে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে ছোট-বড় যাত্রীবাহী জাহাজ। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে তাদের গন্তব্য মরক্কো, আলজেরিয়া কিংবা তিউনিস। এমনই একটি জাহাজ কেবলমাত্র ছেড়ে গেল গ্রানাডা বন্দর। জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে বন্দরের দিকে তাকিয়ে আছেন আলি ইবনে রশিদ। তার চোখভরা অশ্রু। শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছেন জন্মভূমি গ্রানাডার সৌন্দর্য। পাশে এসে তার হাত ধরে দাঁড়ালেন স্ত্রী লাল্লা (লেডি) জোহরা ফার্ননান্দেজ। তার কোলে তাদের শিশুকন্যা আয়েশা। আয়েশাও তাকিয়ে আছে ম্রিয়মান গ্রানাডার দিকে। ছোট্ট আয়েশা হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, ‘বাবা বাবা ওই যে আগুন!’

আলি এবং জোহরা তাকালেন বন্দরের এক পাশে। একটি মুসলিম জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। কাঠের জাহাজে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। জাহাজের পাটাতন, ডেক ছাড়িয়ে আগুনের শিখা মুহূর্তে গ্রাস করে নিল মাস্তুল ও পালের মোটা কাপড়ে। জাহাজের যাত্রীদের কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। অনেকের শরীরে আগুন ধরে গেছে, আগুন নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়ল ভূমধ্যসাগরের নীল জলে। আর অনেকেই পুড়ে মরল লেলিহান আগুনের ভেতর। এত দূর থেকেও যেন তাদের বুকফাটা চিৎকার শুনতে পেলেন আলি ইবনে রশিদ। তিনি আর সহ্য করতে পারলেন না, দু হাতে মুখ চেপে ধরে বসে পড়লেন। আয়েশা তখনও চিৎকার করে যাচ্ছে, ‘আগুন আগুন …!’

ইতিহাসের দায় : স্পেনে (আন্দালুস) মুসলিমদের সাত শ’ বছরের শাসন সমাপ্ত হয়েছে গত মাসে। অ্যারাগনের খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড এবং ক্যাস্টিলের রাণি ইসাবেলা হাতে রাজধানী গ্রানাডা হস্তান্তর করে দিয়েছেন স্পেনের শেষ মুসলিম স¤্রাট আবু আবদুল্লাহ। গ্রানাডা দখল করে ফার্ডিন্যান্ড ও ইসাবেলা আদেশ দিয়েছেন- কোনো মুসলিম যদি স্পেনে থাকতে চায় তবে তাকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চলে যেতে হবে স্পেন থেকে। জীবন বাঁচাতে অনেকেই গ্রহণ করে নিয়েছে খ্রিষ্টধর্ম। অনেক মুসলিম জীবন ও সম্মান বাঁচাতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে চলে যাচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন মুসলিম দেশে। আয়েশার বাবা আলি ইবনে রশিদ এবং তার পরিবারও স্পেন ছেড়ে চলে যাচ্ছে মরক্কোর দিকে। মাতৃভূমি ছেড়ে নতুন আবাসের সন্ধানে।
ছোট্ট আয়েশাকে দেখে কেউ সেদিন বুঝতে পারেনি, প্রতিশোধের কী তীব্র আগুন বুকে নিয়ে সে পাড়ি দিচ্ছে ভূমধ্যসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। প্রতিশোধের অভীপ্সায় একদিন এই ভূমধ্যসাগরই তার নাম শুনে ভয়ে প্রকম্পিত হবে।

নতুন আবাস : আয়েশার জন্ম গ্রানাডায়। ১৪৮৫ থেকে ১৪৯০-এর মাঝামাঝি কোনো সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। স্পেন ত্যাগ করার সময় তিনি নিতান্ত শিুশু। আয়েশার বাবা আলি ইবনে রশিদ ছিলেন গ্রানাডার প্রভাবশালী রশিদ বংশের প্রধানপুরুষ। গোত্রপতিই বলা চলে। এ কারণে, স্পেনে মুসলিম বিতাড়ন শুরু হলে তিনি পরিবার এবং বংশীয় লোকজন নিয়ে গ্রানাডা থেকে মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে চলে আসেন। তাঞ্জিয়ারের উপকূলবর্তী এলাকা শেফশাউনে নতুন করে গড়ে তোলেন গোত্রীয় আবাস। স্পেন থেকে আরও যেসব মুসলিম পালিয়ে আসত, তাদেরও জায়গা হতো আলি ইবনে রশিদের আশ্রয়কেন্দ্রে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে শেফশাউন পরিণত হয় নতুন এক শহরে।

হুররা: নতুন আবাসে এলেও বাবা আলি ইবনে রশিদ সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষার কথা ভুলে যাননি। ছেলে ইবরাহিম এবং মেয়ে আয়েশার শিক্ষার জন্য তিনি তৎকালীন প্রসিদ্ধ আলেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ঘাজওয়ানিকে দায়িত্ব দেন। এছাড়া শায়খ উদজাল নামের আরেকজন ধর্মীয় ব্যক্তি ছিলেন তাদের ধর্মীয় দীক্ষাগুরু। তিনি একদিন আয়েশার মাথায় হাত দিয়ে বলেছিলেন, ‘এ মেয়ে একদিন বংশের নাম উজ্জ্বল করবে।’
দেখতে দেখতে আয়েশা বড় হয়ে গেল। তার বয়স যখন ষোল তখন তার বিয়ের পয়গাম এল পার্শ্ববর্তী তিতওয়ানের প্রশাসক আবুল হাসান আল-মান্দারির পক্ষ থেকে। আল-মান্দারি বয়সে আয়েশার চেয়ে ঢের বড়, তার বয়স তখন প্রায় ৪৫। দুজনের বয়সের ব্যবধান প্রায় ৩০ বছর। আয়েশা ইচ্ছা করলে এ বিয়ের পয়গাম নাকচ করে দিতে পারতেন, তার বাবা তাকে সে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আয়েশা আল-মান্দারিকেই বিয়ে করলেন। কী কারণে? সে প্রশ্নের জবাব পেতে আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।

সাইয়িদা আল-হুররার উত্থান : আল-মান্দারি লোক হিসেবে ছিলেন চমৎকার। রশিদ বংশের মেয়ে আয়েশাকে যোগ্য সম্মান দিতে তিনি কসুর করেননি। বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি তাকে তিতওয়ানের রাণি ঘোষণা করেন। উত্তর মরক্কো শাসন করতেন আহমদ আল-ওয়াত্তাসি। আল-মান্দারি ছিলেন আল-ওয়াত্তাসির অধীনস্থ। আয়েশার বিয়ের পর আল-ওয়াত্তাসি আয়েশার ভাই ইবরাহিমকে নিজের দরবারে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
আয়েশার দিনকাল সুখেই কাটছিল। কিন্তু সুখ বেশিদিন স্থায়ী হল না। ১৫১৫ বা এর দু-এক বছর পর তার স্বামী আল-মান্দারি মারা যান। আল-মান্দারির মৃত্যু আয়েশার জন্য শোকের কারণ হলেও স্বামী মৃত্যুর পর তার সামনে সম্ভাবনার নতুন এক দুয়ার খুলে যায়। আল-মান্দারির অন্য স্ত্রীর যোগ্য কোনো উত্তরাধিকার না থাকায় তিনি নিজেকে তিতওয়ানের প্রশাসক ঘোষণা করেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন রাণি ছিলেন এবং তার বাবাও ছিলেন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, এ কারণে সবাই বিনাবাক্যে তাকে তিতওয়ানের প্রশাসক হিসেবে মেনে নেয়।
তিতওয়ানের রাণি হয়ে তিনি নিজের নামের সঙ্গে পদবী যুক্ত করেন ‘সাইয়িদা আয়েশা আল-হুররা’। যার অর্থ: সার্বভৌম স্বাধীন রাণি আয়েশা। সত্যিকার অর্থেই তিনি নিজেকে স্বাধীন রাণি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন।
তিতওয়ানের রাণি হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি নিজের জন্য একটি সংগঠিত ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ার কাজে মন দেন। এ কাজে তাকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। কেননা, স্পেন থেকে তার জ্ঞাতিগোষ্ঠী যারা এসেছিল তাদের অনেকেই ছিল গ্রানাডার নামকরা নাবিক। নতুন করে নির্মাণ করা হয় সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। নিয়োগ দেয়া হয় উত্তর মরক্কোর ডাকসাঁইটে অ্যাডমিরালদের। এরপর সাইয়িদা আল-হুররা একদিন সুযোগ বুঝে বেরিয়ে পড়েন ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গের মাঝে। তার চোখে ভাসতে থাকে গ্রানাডা থেকে বিতাড়িত হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি। যে স্মৃতি তিনি বছরের পর বছর ধরে বুকের গভীরে চাপা দিয়ে রেখেছেন। প্রতিশোধ গ্রহণের প্রতিজ্ঞায় ক্ষিপ্র হয়ে উঠেন তিনি।

দুঃসাহসী নারী নৌ সেনাপতি : পর্তুগিজ আর স্প্যানিশরা তখন আরব, দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারতবর্ষে তাদের রকমারি ব্যবসার পসরা সাজাতে ব্যস্ত। ব্যবসায়িক পণ্য আনা নেয়ার জন্য ভূমধ্যসাগর ছিল তাদের জাহাজের আবশ্যিক রুট। ১৫১৫ সালের পর এই রুটে জিব্রাল্টার প্রণালির সরু খাঁড়িতে নৌ-যুদ্ধ শুরু করেন আল-হুররা। তার জাহাজ দ্রুত পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজে হামলা করে, ধন-সম্পদ নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার গায়েব হয়ে যেত। তবে তারা শুধু স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ জাহাজে হামলা করত। কোনো মুসলিম বা আফ্রিকান জাহাজে হামলা করত না। কিছুদিনের মধ্যেই এই হামলাবাজীর কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুখে মুখে রটে যায়, এক নারী জলদস্যু কব্জা করেছে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর।
এ সময়টাতে ভূমধ্যসাগরের আলজিয়ার্স অঞ্চলের আধিপত্য ছিল দুর্ধর্ষ নৌযোদ্ধা খায়রুদ্দিন বারবারোসা এবং তার ভাই উরুজ রেইজের। দুঃসাহসিক সব অভিযানের জন্য ইতিহাসে তারা কিংবদন্তি হয়ে আছেন। বিশেষত ভাগ্যাহত স্প্যানিশ মুসলিমদের প্রতি উরুজ রেইজ ছিলেন অত্যন্ত সহমর্মী। অনেকবার তিনি স্পেন থেকে শরণার্থী মুসলিমদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছিলেন। সঙ্গত কারণে সাইয়িদা আল-হুররা হাত মেলান উরুজ রেইজের সঙ্গে। তার সাহায্য ও সহযোগিতায় কিছুদিনের মধ্যেই ভূমধ্যসাগরে পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ জাহাজের ঘুম হারাম করে দেন আয়েশা আল-হুররা।
একদিকে তিনি যেমন ছিলেন তিতওয়ানের রাণিশাসক, তেমনি ছিলেন সাগরের দুঃসাহসী নৌ জেনারেল। তবে সাগরে দস্যুবৃত্তির প্রয়োজন ছিল না তার। স্বামীর অঢেল সম্পদে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ছোটবেলার সেই দুঃসহ স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারেননি। মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়ার অপমানজনক অধ্যায় মুছতে পারেননি হৃদয় থেকে। তাই যখনই সুযোগ এসেছে তখনই স্প্যানিশ জাহাজে আক্রমণ করে ছিনিয়ে এনেছেন তাদের অর্থ-সম্পদ। তাছাড়া, মরক্কোর তখন রাষ্ট্রীয় কোনো নৌবাহিনী ছিল না। রাষ্ট্রীয় নৌবাহিনীর কাজও আঞ্জাম দিতো আল-হুররার নৌসেনারা।

অবশেষে : স্বামী আবুল হাসান মারা যাওয়ার পর সাইয়িদা আয়েশা আল-হুররা আর বিয়ে করেননি। একাধারে প্রায় ২৫ বছর তিনি শাসন করেন তিতওয়ান এবং এ ২৫ বছরে আক্রমণ করেন শত শত পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ জাহাজে। স্পেন, পর্তুগাল, রোম তো বটেই, তিউনিস, আলজিয়ার্স, আলেক্সান্দ্রিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তার নাম। এ অঞ্চলের সহায়হীন মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে গণ্য হতে থাকেন তিনি।
১৫৪০ সালে উত্তর মরক্কোর শাসক আহমদ আল-ওয়াত্তাসি সাইয়িদা আয়েশা আল-হুররার কাছে বিয়ের পয়গাম পাঠান। দুজনেরই বয়স হয়েছিল। রাজ্যের ঐক্যের জন্য এটা ছিল অনেকটা রাজনৈতিক বিয়ে। আল-হুররা পয়গাম কবুল করেন। তবে তিনি শর্ত দেন, বিয়ের জন্য কনে নয়, বরকেই আসতে হবে কনের বাড়িতে। মরক্কোর প্রথা অনুযায়ী কনেকে বরের বাড়িতে যাওয়াই ছিল রেওয়াজ। আর যেহেতু এটা ছিল রাজকীয় বিয়ে, সুতরাং প্রথা ভাঙার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু আহমদ আল-ওয়াত্তাসি আয়েশা আল-হুররার শর্ত মেনে নিয়ে রাজকীয় বিয়ের বরাত নিয়ে তিতওয়ানে আসেন। মরক্কোর ইতিহাসে কোনো সুলতান কনের বাড়ি গিয়ে বিয়ে করার রেওয়াজ এটাই ছিল প্রথম।
এ বিয়ের দুই বছর পর ১৫৪২ সালে সাইয়িদা আল-হুররার জামাতা আহমদ আল-হাসান আল-মান্দারি তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার কাছ থেকে তিতওয়ানের শাসনকার্য ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে তার পৈতৃক নিবাস শেফশাউনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে পাঠানো হয়। এই বিশ্বাসঘাতকতার পেছনে পর্তুগিজদের এবং দক্ষিণ মরক্কোর শাসক সাদির হাত ছিল বলে ধারণা করা হয়। উত্তর ও দক্ষিণ মরক্কো ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সালতানাত। প্রায়ই দুই মরক্কোর মাঝে যুদ্ধ-কলহ তৈরি হত। এর জেরেই সাইয়িদা আল-হুররাকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নির্বাসনে যেতে হয়।
শেফশাউনে সাইয়িদা আয়েশা আল-হুররা ২০ বছর নির্বাসনে কাটান। অবশেষে ১৫৬১ সালের ১৪ জুলাই নির্বাসনেই তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
তিনি চলে গেলেও তার মাতৃভূমিপ্রেম এবং দুঃসাহসী নৌযুদ্ধের গল্প অমর হয়ে আছে ভূমধ্যসাগরের অসংখ্য ঢেউয়ের কোলে। তাঞ্জিয়ার কিংবা জিব্রাল্টারের তীরে কান পাতলে এখনও শোনা যায় সেই দুঃসাহসী নারী নৌ জেনারেলের অমর গল্পগাথা।

থ্যসূত্র :
1.    http://inhouse.lau.edu.lb/iwsaw/ raida101-102/EN/p010-043.pdf
2.    https://www.upress.umn.edu/ book-division/books/the-forgotten-queens-of-islam
3.    http://sister-hood.com/sister-hood-staff/sayyida-al-hurra-c-1493-1542/
4.    https://www.aramcoworld.com/ en-us/Articles/January-2017/Malika-VI-Sayyida-Al-Hurra
5.    https://pictorial.jezebel.com/ sayyida-al-hurra-the-beloved-avenging-islamic-pirate-1685524517
6.    islamtime24.com

0 মন্তব্য
1

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!