ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে উলঙ্গ ইহুদি এজেন্ট

by sultan

জাহিদ মল্লীক (ব্রুনাই থেকে): মার্কিন কংগ্রেস [সংসদ]-এর নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি পরিষদ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে।

হাউজ তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দিয়েছে। একটি অভিযোগ: ট্রাম্প তার পদকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

আরেকটি অভিযোগ হচ্ছে, ট্রাম্প অভিশংসনের তদন্তে কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হওয়ার পর এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে বিচারের মুখোমুখি হবেন। আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিনেটে এই শুনানির কার্যক্রম শুরু হবে।

কিন্তু সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের রায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের।

১০০ সদস্য বিশিষ্ট সিনেটে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করতে ডেমোক্র্যাটদের দরকার ৬৭টি ভোট। অথচ সিনেটে একশটি আসনের মধ্যে ৫৩টি রিপাবলিকানদের।

সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা ইতিমধ্যে ট্রাম্পের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

সুতরাং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগের যত গুরুতর প্রমাণই থাকুক না কেন, ট্রাম্পই আসলে প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকবেন।

সবচেয়ে বড় কথা, ট্রাম্পের ভোটাররা এখনো ট্রাম্পের পক্ষেই শক্তভাবে আছেন। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত একদম সমান সমান। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট এবং টিভি চ্যানেল এবিসি’র সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ আমেরিকান অভিশংসনের পক্ষে, ৪৬ শতাংশ এর বিপক্ষে। বাকিদের কোনো পক্ষে মত নেই।

আসলে আমেরিকার ইতিহাসে কখনোই কোনো প্রেসিডেন্ট আমেরিকান সিনেটে অভিশংসিত/পদচ্যুত হননি। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে অভিশংসিত হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। মিথ্যা কথা বলে শপথ-ভঙ্গ করা এবং বিচারে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে অভিশংসিত করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজেরই একজন ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সাথে যৌন সম্পর্কের ব্যাপারে মিথ্যা বলেছিলেন ক্লিনটন।

কিন্তু পরে ১৯৯৯ সালে যখন এসব অভিযোগে উচ্চ কক্ষ সেনেটে বিল ক্লিনটনের বিচার হয় তখন তাকে আর দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। কারণ অভিযোগের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সেনেটরের সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে বিল ক্লিনটনকে ক্ষমতা ত্যাগ করতে হয়নি।

আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর আগে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম অভিশংসিত হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা প্রেসিডেন্ট ‌অ্যান্ড্রু জনসন।
১৮৬৮ সালে কংগ্রেসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডউইন স্ট্যানটনকে বরখাস্ত করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারে বাধা দেয়ার। সেবার তাকেও ক্ষমতা হারাতে হয়নি। অল্পের জন্যে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। একটি মাত্র ভোটের অভাবে তার অভিশংসনের জন্যে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া যায়নি।

সুতরাং ট্রাম্পও ব্যতিক্রম হবেন না। সিনেটে বেঁচে যাবেন ট্রাম্প।

এসব ঘটনা তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের বুলিকে অসার প্রমাণ করে। বরং আমেরিকার অভিশংসনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, আমেরিকার শক্তিশালী ক্ষমতাবলয়গুলোর পক্ষে থেকে প্রকাশ্য অন্যায় করেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।

আমেরিকার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান প্রভাব বলয় হলো ইহুদি ব্লক।

ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে উলঙ্গ ইহুদি-স্তাবক। ইসরায়েলের অবৈধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডকে এমন নগ্নভাবে সমর্থন করার নির্লজ্জতা এর আগে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টও এভাবে দেখাননি।

যুদ্ধব্যবসায়ী মার্কিন তেল-গ্যাস ও অস্ত্র কোম্পানিগুলোও ট্রাম্পের পক্ষে। আমেরিকার এই তেল-গ্যাস ও অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র আমেরিকার ক্ষমতার অতি প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক।

তাই ইহুদি-ব্লক ও যুদ্ধব্যবসায়ী মার্কিন কর্পোরেট হাউজগুলোর সমর্থনে ট্রাম্প শুধু এ-যাত্রায় টিকেই যাবেন না, আসন্ন ২০২০ সালের নির্বাচনেও ফের বিজয়ী হয়ে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসবেন—এমন সম্ভাবনাই প্রবল।

0 মন্তব্য
0

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!