তুরগুত আল্প: উসমানীয় সালতানাতের গর্বিত সম্পদ

by sultan

উসমানীয় সালতানাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য বীর সিপাহসালার, পাশা ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে অসংখ্য যুদ্ধে তুর্কি বীরদের বীরত্বে তৎকালীন পরাক্রমশালী শাসকরাও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলো। তেমনি এক তুর্কি সিপাহসালার তুরগুত আল্প।  তুর্কি ঐতিহাসিক সিরিজ ‘দিরিলিস আরতুগরু’ দেখার বদৌলতে এখন মুসলিম যুবকদের মুখে মুখে তুরগুত আল্পের নাম এবং তার অসামান্য যুদ্ধশৌলি।  বিশেষ করে তার শক্তিশালী ওজনদার কুঠারটি নিয়ে আলোচনার কমতি নেই।

পরিচয়:
ইতিহাস থেকে তুরগুত আল্পের সম্পর্কে যা পাওয়া যায় তাতে পরিষ্কার হয় যে, এই মহান বীর ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।  ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধের প্রতি এবং যুদ্ধকৌশলের প্রতি অসামান্য আগ্রহ ছিলো।  ফলে কিশোর বয়সেই তুরগুত আল্প একজন সুঠামদেহী যোদ্ধা হয়ে ওঠেন।  উসমানীয়রা যে কায়ী বসতি থেকে উঠে এসে পুরো ইউরোপ দ্বীন ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে এসেছিলো সেই বসতির প্রধান সুলায়মান শাহ, তার ছেলে আরতুগ্রুল গাজী, তার ছেলে ওসমান গাজী এবং ওসমান গাজীর ছেলে ওরহান গাজীর সময়ও তাদের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন এই মহান মুসলিম বীর।  আরতুগ্রুল গাজীর পর থেকে ওরহান গাজীর সময় পর্যন্ত প্রতি যুদ্ধে আসাম্য বীরত্ব ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তুরগুত আল্প।  আরতুগ্রুল গাজী, ওসমান গাজী এবং তার পরবর্তী শাসক সুলতান ওরহান গাজীর প্রতিটি সিদ্ধান্ত একনিষ্ঠভাবে মেনে নিতেন তিনি।  উসমানীয় সালতানাতের গোড়াপত্তনের পেছনে তুরগুত আল্পের অবদান অনস্বীকার্য

দিরিলিস সিরিজে তুরগুত আল্প

স্বর্ণালী জীবন:
তুরগুত আল্পের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে দিরিলিস সিরিজে কিছুটা প্রকাশ করা হলেও ইতিহাসে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম সংখ্যক তথ্যই পাওয়া যায়।  তবে ইতিহাসমতে, তুরগুত আল্প এক ছেলে সন্তানের বাবা ছিলেন।  যার নাম ছিলো ইলিয়াস বে।  তুরস্কের কনক মহল্লেসী নামক স্থানে ইলিয়াস বের নামে একটি মসজিদ রয়েছে।  ওসমান গাজীর নির্দেশে তুরগুত আল্প এঙ্গেলাকোমা বিজয় করেন যা বর্তমানে ইনেগল নামে পরিচিত।  এটি বর্তমানে তুরস্কের বুরসা প্রদেশের একটি শহর।  এঙ্গেলাকোমা বিজয়ে তার আশেপাশের এলাকাগুলো নিয়ে ওসমানী গাজী তাকে সেখানকার শাসক নিযুক্ত করেন।  যাকে তৎকালীন তুরগুত ইলি বা তুরগুত ভুমি বলা হতো।  পরবর্তীতে ওসমান গাজীর নির্দেশে তুরগুত আল্প বার্জেন্টাইন খ্রিষ্টানদের গুরুত্বপূর্ণ শহর বুরসা অবরোধ করেন।  দীর্ঘ ১০ বছর বুরসা অবরোধের পরিচালিত হয় এবং ১০ বছর পর ১৩২৬ সালে বুরসা নগরীর পতন ঘটে এবং সেটি উসমানীয় তুর্কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে পরিণত হয়।  এই বুরসা নগরীতেই ওসমান গাজীর কবর রয়েছে।

বুরসা নগরী

তুরগুতের কুঠার:
তুরগুত আল্প ইতিহাসে পরিচিতই হয়েছে তার শক্তিশালী কুঠার ঘুরানো এবং তা দিয়ে শত্রুপত্রকে ঘায়েল করার নৈপুণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমেই।  তুরগুত আল্পের কুঠারটি ৯৭ সেন্টিমিটার লম্বা ছিলো এবং এর ওজন ছিলো ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম।  এটি তৈরী করা হয়েছিলো তৎকালীন সবচেয়ে বিখ্যাত বুরসা নগরীর লোহা দিয়ে। 

তুরগুত আল্পের কুঠার (মিউজিয়ামে সংরক্ষিত)
তুরগুত আল্পের ব্যবহৃত পোশাক

মৃত্যু:
বুরসা অবরোধের সময়ই ১৩২৩ সালে তুরগুত আল্প শহীদ হন।  তুরগুত আল্প প্রায় ১২৮ বছর হায়াত পেয়েছিলেন।  তাকে বর্তমান তুরস্কের আনিগল জেলার তুরগুতআল্প গ্রামে দাফন করা হয়।  পরবর্তীতে তার মৃত্যুর প্রায় ৫০০ বছর পর ১৮শ শতাব্দিতে রাশিয়া-তুর্কি যুদ্ধের সময় সুলতান আব্দুল হামিদ বুলগেরিয়ার একটি শহরের নাম রাখেন ‘তুরগুতআল্প’।

তুরগুত আল্পের কবর

সুত্র:
wattpad.com
Islam Edu Online
ইন্টারনেট

0 মন্তব্য
2

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!