ব্রিটিশবিরোধী ভাক্কম আব্দুল কাদির: ২৬ বছর বয়সেই যার ফাঁসি হয়েছিলো

by sultan

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বলে থাকে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নাকি মুসলিমদের কোনোই অবদান নেই। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মুসলিমদের কারণেই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো ভারতবর্ষ। সর্বপ্রথম ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলো মুসলমানরা। পরবর্তীতে মুসলমানদের দেখাদেখি সংগ্রামে নেমেছিলো বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর লোক। হাজার হাজার মুসলিম সংগ্রামীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ভাক্কম আব্দুল কাদির। ইনি সেই ইনি সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সতন্ত্র সেনানী যাকে মাত্র 26 বছর বয়সেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

১৯১৭ সালের ২৫ মে ভাক্কম আবদুল কাদের কেরলে জন্মগ্রহণ করেন। ইনার পিতার নাম বাবা খুন্হু এবং মাতার নাম উম্মে সালমা। দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার পরে ইনি কংগ্রেসে যোগদান করেন। পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ২২ বছর বয়সে তিনি মালেশিয়া চলে যান। তৎকালীন সময়ে কেরলের সাধারণ প্রথা ছিল টাকা রোজগারের জন্য সিঙ্গাপুর চলে যাওয়ার।

মালয়েশিয়ায় ভাক্কম আবদুল কাদেরের সাক্ষাত রাসবিহারী বসুর সঙ্গে হয়। তিনি রাসবিহারী বসুর সঙ্গে গিয়ে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং INDIAN NATIONAL ARMY এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। তিনি স্বরাজ ইন্সটিটিউটে মিলিটারি ট্রেনিং নেন এবং খুব শীঘ্রই INA তে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন।

INA তাদের ২০ জন ক্যাডেটকে ভারতে পাঠিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চাইছিলো, সেই ২০ জন ক্যাডেটের মধ্যে একজন ভাক্কম আবদুল কাদের ও ছিলেন। ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ সালে হিন্দুস্তানে আসার জন্য সামুদ্রিক পথে ভাক্কম আবদুল কাদের মালেশিয়া ছাড়েন। এই কাজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো তাই INA এই স্কোয়াডের নাম রেখেছিল Suicidal Squad….

কেরলের মালাবার উপকূলে তারা পৌঁছানো মাত্র পুলিশের গুপ্তচর মারফত তাদের পৌঁছানোর সংবাদ পুলিশের কাছে পৌঁছে যায়। ভাক্কম আবদুল কাদের যখন বুঝতে পারলেন যে তাকে পুলিশ চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে, তিনি মুহূর্ত বিলম্ব না করে সমস্ত দলিল দস্তাবেজ নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন আর INA এর দেওয়া দলিল দস্তাবেজ জলে চুবিয়ে নষ্ট করে দেন। দুর্ভাগ্যবশত তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কালিকট জেলে বন্দি করে তার উপর বহু নির্যাতন চালানো হয়, যাতে তিনি মুখ খুলে দেন। কিন্তু ভাক্কম আবদুল কাদের INA সম্বন্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।

১ লা এপ্রিল, ১৯৪৩ সালে ভাক্কম আবদুল কাদের ও তার সাথীদের ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। হাইকোর্ট মামলার গুরুত্ব বুঝে যতো শীঘ্র সম্ভব ফাঁসির আদেশ দেয়। ১০ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ সালে (৭ ই রমজান) সকালের সময় তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তাঁর সাথেই ফাঁসি হয়েছিল বাঙালি বিপ্লবী সত্যেন্দ্রচন্দ্র বর্ধন, ফৌজা সিং, আনন্দন ও বনিফেস পেরেরা’র।
তিনি ৯ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ সালে তার পিতাকে একটি পত্র লেখেন। সেই পত্রে তিনি লিখেছিলেন- বাবা আমার এটাই সৌভাগ্য যে রমজানের মাসে আমি দেশের জন্য শহীদ হচ্ছি। এই পত্র INA এর আর একজন সক্রিয় সদস্য ভাক্কম মাজিদ সর্বসমক্ষে এনেছিলেন।

ভগত সিং মাত্র২৪ বছর বয়সে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন আর ভাক্কম আবদুল কাদের মাত্র 26 বছর বয়সে শহীদ হয়ে গিয়েছিলেন।

0 মন্তব্য
1

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!