ভারতবর্ষে ইসলামের আগমন (৩): আমিন উল মিল্লাত সুলতান মাহমুদ গজনভীর অভিযান

by sultan

ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই আরব বণিকগণ ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করতাে। আরবে দ্বীন ইসলাম এসে পুরো আরবজাতিকে আলোকিত করার পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে। আরব মুসলিম নাবিকদের অনেকেই উপমহাদেশের পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। স্থানীয় যেসব নারী ইসলামের মহত্বে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করতো তাদেরকে বিবাহ করেন তারা। এভাবে কালক্রমে তারা বেশ কয়েকটি উপনিবেশ গড়ে তােলে। কিন্তু দ্বীন ইসলাম আসার প্রায় একশ বছর পর ভারতে মুসলমান শাসনের গােড়াপত্তন হয়।

মুহম্মদ বিন-কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রায় তিনশ বছর পর গজনীর সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান করেন।  সুলতান মাহমুদ জাতিতে তুর্কী। তিনি ছিলেন গজনীর আমীর সবুক্তগীনের পুত্র। সবুক্তগীনের মৃত্যুর পর তাঁর ছােট পুত্র ইসমাইল সিংহাসনে বসেন।  পরবর্তীতে ইসমাইলকে পরাজিত ও কারারুদ্ধ করে মাহমুদ ক্ষমতায় আসেন। তিনি আমীর-এর পরিবর্তে সুলতান উপাধি ধারণ করেন।  বাগদাদের পুতুল খলিফা কাদির বিল্লাহ তাকে ইয়ামিন-উদ-দৌলা’ ও আমিন-উল-মিল্লাত’ খেতাবে ভূষিত করেন।  ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি ১৭ বার ভারত অভিযান করেন। 

সুলতান মাহমুদের পিতা সবুক্তগীনের সময় থেকে গজনীর সাথে পাঞ্জাবের হিন্দুশাহী বংশের বিরােধ চলছিল।  শাহী রাজ্যের রাজা জয়পাল ছিলো সবুক্তগীনের শত্রু।  সুতরাং মাহমুদ জয়পালের সাথে শত্রুতা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছিলেন।  ভারতের অনেক রাজা আনন্দপালের সাথে মাহমুদ বিরােধী জোটে যােগদান করেন।  সুতরাং মাহমুদকে তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করতে হয়।  আবার ভারতের কোন কোন রাজা মাহমুদের সাথে বন্ধুত্ব সূত্রে আবদ্ধ হয়।  এতে তাঁদের প্রতিবেশী রাজণ্যর্গ তাঁদের প্রতি বৈরীসুলভ আচরণ শুরু করেন।  মিত্রবর্গের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যও মাহমুদকে ভারতে অভিযান করতে হয়।  পরাজিত রাজারা মাহমুদের সাথে সন্ধি করে।  তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সুযােগ পেয়ে সন্ধি শর্ত ভঙ্গ করে।  বিদ্রোহী রাজাদের সন্ধি শর্ত পালনে বাধ্য করার জন্যও মাহমুদকে অভিযান করতে হয়। 

সুলতান মাহমুদ গজনীতে দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তােলেন।  তাঁর ছিল একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী।  রাজধানী গজনীকে তিনি মনের মতাে করে সাজাতে চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন জ্ঞানী-গুণীর পৃষ্ঠপােষক।  তিনি ভারত অভিযানে যাওয়ার পর হাতে আসা সকল অর্থ এইসকল জনহৈতেষি কাজেই ব্যয় করতেন। 

গজনভী সামরিক বাহিনী

অনেক ঐতিহাসিক তার ভারতে আগমন ও ধন-সম্পদ কব্জার বিষয়ে মিথ্যাচার করে থাকে।  প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষ থেকে সুলতান মাহমুদ গজনভী অর্থ সংগ্রহ করলেও  মাহমুদকে লুণ্ঠনকারী বা অর্থলােলুপ তস্কর বলা যাবে না।  ভারত থেকে সংগৃহীত অর্থ তিনি মানব কল্যাণে ব্যয় করেন।  নিজের ভােগ-বিলাসের জন্য তিনি সে অর্থ ব্যবহার করেন নি।  সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সামরিক উদ্দেশ্য ছিল।  নিজ রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য তাঁর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পাঞ্জাব ও সিন্ধু দখল করা অত্যন্ত প্রয়ােজন ছিল। এ সকল অঞ্চল ছিল সামরিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  তিনি ছিলেন দক্ষ সমরবিদ। তাঁর অশ্বারােহী ও পদাতিক বাহিনী ছিল সুশৃঙ্খল ও সমরনিপুণ।  (আগামী পর্বে সুলতান মাহমুদ গজনভীর অভিযান ও যুদ্ধের বর্ণনা থাকবে ইনশাআল্লাহ)

  • সুত্র:
    এনিপিডিয়া,
    ইন্টারনেট


0 মন্তব্য
0

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!