রাজাকাররা দাড়ি, টুপি ও ইসলামি লেবাসওয়ালা ছিলো – এটা কতটুকু সত্য!

by sultan

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংগঠিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনেক গৌরবময়।  ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।   মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়লেই সর্বপ্রথম যে বিষয়টি বেশি আলোচিত হয় তা হলো ‘রাজাকার’।  বর্তমানে বাংলাদেশের নাটক সিনেমাগুলোতে বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে বানানো সিনেমাগুলোতে যাদেরকে রাজাকার হিসেবে এ্যাক্টিং করানো হয় তাদের বেশিরভাগকেই ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সিনেমাতে ফুটিয়ে তোলা হয়।  বিষয়টি অনেকটা এমনই ‘যারা রাজাকার, তাদের মুখে দাড়ি থাকবে, মাথায় টুপি থাকবে।  নামাজ পড়বে ইত্যাতি। ’ কিন্তু এগুলো সবই ইসলামকে কটাক্ষ করার জন্য কথিত সেক্যুলাররা ও ইসলামবিদ্বেষীরা এটা করে থাকে।  আজকের এই লেখায় আমরা দেখবো, রাজাকাররা আসল কেমন ছিলো।

যদিও অমুসলিম উপজাতি নেতা ত্রিদিব রায়, মিশুদ্ধানন্দ মহাথেরো পশ্চিম পাকিস্তানীদের সমর্থন করেছিলো, তবুও কোনো অজানা কারণে পাকিস্তানি সমর্থকদের শুধু ইসলামী লেবাসেই উপস্থাপন করা হয়েছে।  যেন ইসলাম ধর্ম অথবা ইসলাম ধর্মের অনুসারীই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছে।  অর্থাৎ কিছু ইসলামিক নামধারী ব্যক্তিত্বের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকে খোদ ইসলাম ধর্মের বিরোধীতা হিসেবে প্রতিপন্ন করা হয় এবং একইসঙ্গে ইসলামের চিহৃ-প্রতীক যারা সমাজে ব্যবহার করেন, তাদের সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার জন্য দায়ী বা এরাই ভিলেন- এমন ইঙ্গিত ফুটিয়ে তোলা হয়।  যেমন শিশির ভট্টচার্যের কার্টুনে এটা ধারাবাহিকভাবে দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও সিনেমা, নাটক, কবিতা ও পোস্টারে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মানেই ইসলামি নানান চিহৃ, প্রতীক আর পোশাকে একটি চরিত্র চিত্রণ সাধারণ ঘটনা হয়ে দাড়ায়।  এভাবেই এক শ্রেনীর মানুষ ইসলাম-বিদ্বেষের চর্চা খুব সচেতনভাবেই করে এসেছে, আর ইসলামপন্থিদের প্রকাশ্যেই হেনস্তা করে গেছে।  কিন্তু মজার কথা হচ্ছে, ইসলামকে এভাবে প্রতীকায়িত করা এবং ইসলামের চিহৃ বা কোনো প্রতীক মানেই তা দিয়ে রাজাকার বোঝানোর এই প্রচেষ্টার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।  অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধের পক্ষের সত্যিকারের তৎপরতা বা ধরাপড়া কোনো সত্যিকারের রাজাকার দেখে তা থেকে প্রতীকায়িতভাবে রাজাকারের ধারণা হাজির হয়নি বা চিত্রিত হয়নি।  এটা হয়েছে পুরোপুরি একটা পরিকল্পিত ইসলাম-বিদ্বেষ থেকে।  যেমন: মুক্তিযুদ্ধকালে যে সব রাজাকার ধৃত হয়েছিলো, আত্মসমর্পন করেছিল, তাদের ছবিতে আমরা দেখব বেশিরভাগের পরণেই কোনো ইসলামি চিহৃ বা প্রতীকের পোশাক ছিল না, স্বাভাবিকভাবে যেটা অনেক সময় থাকে।  এমনকি কোথাও কোথাও স্বাভাবিক মুখে দাড়িও ছিল না।  নিচের এই ছবিগুলো থেকে তা স্পষ্ট হয়।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধীদের ইসলামি লেবাসে উপস্থাপনের এই কাজটা করেছে বাংলাদেশের সেক্যুলারপন্থি ইসলাম-বিদ্বেষীরা।  তারা মনে করে,  কেবল পাকিস্তান সমরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শাসকের বিরুদ্ধে নয় অথবা পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব বাংলার কলোনিতুল্য সম্পর্কের বিরুদ্ধেই শুধু নয়- মুক্তিযুদ্ধের লড়াইটা বুঝি একইসঙ্গে ইসলামের বিরুদ্ধেও হয়েীছলো।  যেন ৬৬ সালের ছয় দফা আদায়র আন্দোলন ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন ছিল অথবা ওতে ইসলাম না মানার বা ইসলামবিরোধী কোনো দাবি ছিল।  অথচ খুবই পরিকল্পিতভাবে এই কাজটাই করা হয়েছে স্বাধীন বা্ংলাদেশে।  আর এটাই সেক্যুলারপন্থিদের প্রধান বয়ান আকারে এখনও বাংলাদেশে রয়ে গেছে।  তারা এটা ধারাবাহিকভাবে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসলামের একটা বড় অবদান রয়েছে।  ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ইসলামের প্রাসঙ্গিকতাকে।

  • মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম – পিনাকী ভট্টাচার্য
  • মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইভ
0 মন্তব্য
5

Related Posts

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!